Category Archives: অনির্বাচিত

১১৮৩ : তাহাজ্জুদের নামায

আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি সদয় হোন, যে রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে তাহাজ্জুদের নামায পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায়, আর স্ত্রী যদি উঠতে দ্বিধা করে তাহলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ সেই মহিলার প্রতি সদয় হোন, যে রাতে ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদের নামায পড়ে এবং নিজের স্বামীকেও জাগায়, আর স্বামী উঠতে দ্বিধা করলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়।"

# রিয়াদুস সলিহীন : ১১৮৩

[ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন]

Advertisements

৪৫৮ : পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়

"তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়।" [সূরা আল হাদীদ: ২০]

"নারী, সন্তান-সন্ততি, পুঞ্জিভুত সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত-খামারের প্রতি আকর্ষণ মানুষের নিকট সুশোভিত করা হয়েছে। এগুলো দুনিয়ার জীবনের ব্যবহারিক উপকরণ। আর আল্লাহ, তাঁর নিকটই তো রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তন।" [সূরা আলে-ইমরান: ১৪]

আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারে বসলেন এবং আমরা তার চারপাশে বসলাম। তিনি বলেন:

"আমার পরে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে তোমাদের জন্য আমার ভয় হচ্ছে তা হলো, (বিভিন্ন দেশ জয়ের পর) তোমরা যে পার্থিব চাকচিক্য ও সৌন্দর্য লাভ করবে (অর্থাৎ বিভিন্ন দেশ জয়ের পরে তোমাদের হাতে যখন প্রাচুর্য আসবে, তোমরা তখন পার্থিব বস্তুর পেছনে ধাবিত হবে, এটাই আমার বড় আশংকা।" [বুখারী, মুসলিম]

# রিয়াদুস সলিহীন ৪৫৮


১৮৮৭ : জান্নাতবাসীরা তারার মতন

আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ

“জান্নাতবাসীরা তাদের উপর তলার কক্ষের লোকদেরকে এমনভাবে দেখতে পাবে, যেমনিভাবে তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিগন্তে উজ্জ্বল তারকাগুলি দেখতে পাও। তাদের পরস্পরের মর্যাদার পার্থক্যের কারণে এরূপ হবে। সাহাবীরা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ স্তরগুলি তো নবীদের যা অন্য কেউ লাভ করবে না। তিনি বলেনঃ হ্যা সেই সত্ত্বার শপথ যার হাতে আমার জীবন! যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং নবীদেরকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাও ঐ স্তরে যেতে সক্ষম হবে।”

— [বুখারী, মুসলিম; রিয়াদুস সলিহীন ১৮৮৭]


কোন মুসলিমের কষ্ট দেখে আনন্দ বা সন্তোষ প্রকাশ করা নিষেধ

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ

♥ “মু’মিনরা পরস্পর ভাই।” –[আল হুজুরাত : ১০]
♥ “নিশ্চিত ধ্বংস এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনা সামনি) লোকদের উপর গালাগাল করতে এবং (পিছনে) দোষ প্রচার করতে অভ্যস্ত।” –[সূরা আল হুমাযাহ: ১-২]

♥ ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “তোমার ভাইয়ের বিপদে আনন্দিত হয়ো না। কেননা এতে আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করবেন এবং তোমাকে ঐ বিপদে নিমজ্জিত করবেন।” –[তিরমিযি]

# রিয়াদুস সলিহীন : ১৫৭৭

♥ আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “কোন ব্যক্তির খারাপ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে অবজ্ঞা করে।” –[মুসলিম]

# রিয়াদুস সলিহীন : ১৫৭৪


৬৮৪

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র পর্দানশীন কুমারী মেয়েদের চাইতেও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। কোন বিষয় তাঁর দৃষ্টিতে অপছন্দনীয় হলে তাঁর চেহারা দেখেই আমরা তা (তাঁর অসন্তুষ্টি) আঁচ করে নিতাম।” [বুখারী, মুসলিম]

*রিয়াদুস সলিহীন : ৬৮৪

বিশেষজ্ঞ আলিমগণ লজ্জাশীলতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেনঃ এটি এমন একটি গুণ যা ঘৃণিত ও বর্জনীয় জিনিস পরিহার করতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে এবং প্রাপকের প্রাপ্য যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে বাধ্য করে। আবুল কাসিম জুনাইদ (র) লজ্জাশীলতার নিম্নোক্ত সংজ্ঞা দিয়েছেনঃ

লজ্জাশীলতা হলো, মানুষ প্রথমত আল্লাহর অপরিসীম দয়া, অনুগ্রহ ও ইহসানের প্রতি লক্ষ্য করবে, তারপর নিজের ত্রুটি ও অক্ষমতা সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করবে। এ উভয়বিধ চিন্তার ফলে মানসপটে যে ভাবের উদয় হয়, তাকেই বলা হয় লজ্জাশীলতা।


৫১৭

আবু উমামা ইয়াস ইবনে সালাবা আল-আনসারী আল-হারিসী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ তাঁর কাছে দুনিয়া সম্পর্কে আলোচনা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমরা কি শুনছো না, তোমরা কি শুনছো না? আরাম-আয়েশ ও বিলাসিতা ত্যাগ করা ঈমানের লক্ষণ, আরাম-আয়েশ ও বিলাসিতা ত্যাগ করা ঈমানের নিদর্শন অর্থাৎ সাদাসিধা ও অনাড়ম্বর জীবন যাপন)”। [আবু দাউদ]

* রিয়াদুস সালেহীন : ৫১৭


৫১৯

আসমা বিনতে ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামার আস্তিন ছিলো কব্জি পর্যন্ত।” [আবু দাউদ, তিরমিযি]

 * রিয়াদুস সালেহীন : ৫১৯