নিয়্যাতের বিশুদ্ধতা-১

মহান আল্লাহ পাক কুরআনে বলেন,

“হে নবী! লোকদেরকে বলে দাও, তোমরা কোন বিষয় মনে গোপন রাখো কিংবা প্রকাশ করো, তা সবই আল্লাহ জানেন।”

[সূরা আলে ইমরান-২৯]

কুরআনে আল্লাহ আরো ইরশাদ করেছেন,

“আর তাদেরকে এই মর্মে আদেশ করা হয়েছে যে, তারা যেন আল্লাহর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে কেবল তাঁরই বন্দেগী করে; আর তারা যেন (একাগ্রচিত্তে) নামাজ কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে আর এটাই হলো সঠিক ও সুদৃঢ় বিধান।”

[সূরা বাইইয়্যেনাহ- ৫]

“তোমাদের (কুরবানীর পশুর) গোশত ও রক্ত কোনটাই আল্লাহর নিকট পৌঁছে না, তাঁর নিকট পৌঁছে শুধু তোমাদের পরহেজগারী।”

[সূরা হাজ্ব- ৩৭]

[১]
আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনে খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) বর্ণনা করেন:
আমি রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে,

“সকল কাজের প্রতিফল কেবল নিয়্যাতের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তিই নিয়্যাত অনুসারে তার কাজের প্রতিফল পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সন্তুষ্টির) জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ ও রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। পক্ষান্তরে যার হিজরত দুনিয়া হাসিল করা কিংবা কোন নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হবে, তার হিজরত সে লক্ষ্যেই নিবেদিত হবে।”

(বুখারী ও মুসলিম)
[রিয়াদুস সলিহীন :১]

[২]
হযরত আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) বর্ননা করেন:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে,

“আল্লাহ তাআলা তোমাদের চেহারা ও দেহের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না; বরং তোমাদের অন্তর ও কর্মের প্রতি লক্ষ্য আরোপ করেন।”

(মুসলিম)
[রিয়াদুস সলিহীন:৭]

[৩]
হযরত আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) বর্ণনা করেন:
রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“পুরুষদের পক্ষে জামায়াতে নামায আদায় করার সওয়াব তার ঘরে ও বাজারে  নামাজ পড়ার চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি। এই কারণে যে, কোনো ব্যক্তি যখন খুব ভালভাবে ওযু করে নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে গমন করে এবং নামাজ ছাড়া তার মনে আর কোন উদ্দেশ্য থাকে না, তখন মসজিদে প্রবেশ না করা পর্যন্ত তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার একটি গুনাহও মাফ হয়ে যায়। মসজিদে প্রবেশ করে যতক্ষণ পর্যন্ত সে নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকে, ততক্ষণ সে নামাযের অনুরূপ সওয়াবই পেতে থাকে। আর যে ব্যক্তি নামায আদায়ের পর কাউকে কষ্ট না দিয়ে অযুসহ মসজিদে অবস্থান করে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার মার্জনার জন্য এই বলে দোআ করতে থাকে:
হে আল্লাহ! একে তুমি ক্ষমা করে দাও; হে আল্লাহ এর তাওবা কবুল কর; হে আল্লাহ! এর প্রতি তুমি দয়া প্রদর্শন করো।”

(বুখারী ও মুসলিম)
[রিয়াদুস সলিহীন:১০]

[৪]
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) বর্ণনা করেন:
রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহিমান্বিত প্রতিপালকের পক্ষ হতে বলেন,

“আল্লাহ তাআলা সৎকাজ ও পাপ কাজের সীমা চিহ্নিত করে দিয়েছেন এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে বিবৃত করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি কোন সৎ কাজে সংকল্প ব্যক্ত করেও এখন পর্যন্ত তা সম্পাদন করতে পারেনি, আল্লাহ তার আমলনামায় একটি পূর্ণ নেকী লিপিবদ্ধ করার আদেশ দেন। আর সংকল্প পোষণের পর যদি উক্ত কাজটি সম্পাদন করা হয়, তাহলে আল্লাহ তার আমলনামায় দশটি নেকী থেকে শুরু করে সাত শো, এমনকি তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি নেকী লিপিবদ্ধ করে দেন। আর যদি সে কোনো পাপ কাজের ইচ্ছা পোষণ করেও তা সম্পাদন না করে, তবে আল্লাহ তার বিনিময়ে তার আমলনামায় একটি পূর্ণ নেকী লিপিবদ্ধ করেন। আর যদি ইচ্ছা পোষণের পর সেই খারাপ কাজটি সে করেই ফেলে, তাহলে আল্লাহ তার আমলনামায় শুধু একটি পাপই লিখে রাখেন।”

(বুখারী ও মুসলিম)
[রিয়াদুস সলিহীন:১১]

Advertisements

About Rahnuma Siddika (রাহনুমা সিদ্দিকা)

মানুষ। মানবী। মুসলিম। পছন্দ করি ভাবতে, বই পড়তে, লিখতে, কথা বলতে, ঘুরতে। মানুষ পড়তেও ভালো লাগে। শোরগোল ও আড়ম্বর ভালো লাগে না। সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ইহলৌকিক স্বপ্ন- পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখা। সিরাতুল মুস্তাকিমের মুসাফির। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। জীবন থেকে শিখছি। নিজেকে ভাঙি ও গড়ি। একটু ভুলোমনা। বন্ধু-বান্ধব পরিমিত। Rahnuma Siddika (রাহনুমা সিদ্দিকা) এর সকল পোস্ট দেখুন

One response to “নিয়্যাতের বিশুদ্ধতা-১

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: